ভারতের নির্বাচন: নতুন মেরুকরণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে?

শনিবার, মে ১১, ২০১৯ ৩:২১ অপরাহ্ণ

আগামী ২৩ মে প্রকাশিত হচ্ছে ভারতীয় লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সারা বিশ্বের রাজনীতির গতি প্রকৃতি অনেকখানি নির্ভর করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিও এই নির্বাচনের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এবং কূটনৈতিকরা মনে করছেন। যদিও বলা হচ্ছে এই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন গুনগত পরিবর্তন হবে না। শেষদিকে নির্বাচনে যেভাবে টানটান উত্তেজনা এবং নাটকীয় মেরুকরণ ঘটছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, ভারতের নির্বাচনের ঢেউ বাংলাদেশে আচড়ে পড়তে পারে। ভারতের কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্কের কথা সবাই জানে। ২০০৬ সালে কংগ্রেস নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে মুক্ত করার জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন।

তিনি তার আত্মজীবনীমূলক একটি লেখায় বলেছেন যে, তিনি এ ব্যাপারে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছেও দেন দরবার করেছিলেন। কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। এজন্যই ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় যখন বিজেপি নির্বাচিত হয়, তখন বিএনপি উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছিল। বিএনপির নেতারা একে অন্যেকে মিষ্টি মুখে আপ্যায়িত করেছিল।

তারা মনে করেছিল, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় বসার পরপরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হবে। ফলে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সহযোগিতার হাত বাড়ান আওয়ামী লীগের প্রতি। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি উচ্ছস্বিত প্রশংসায় প্রশংসিত করেন। ফলে দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যায়। এই নির্বাচন বাংলাদেশের কাছে এ কারণেই উৎসাহীন হয়ে পড়ে যে, ভারতের ক্ষমতার মসনদে বিজেপি বসুক আর কংগ্রেস বসুক, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকার পরিবর্তনে কোন অসুবিধা হবে না। কিন্তু এবার নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের উথাপন ঘটছে।

মমতার নেতৃত্বে সংখ্যালঘু জোটও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবণা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কংগ্রেস আগের চেয়ে শক্তিশালী হলেও ক্ষমতায় আসার অবস্থা তাঁদের থাকবে না। আবার অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি এককভাবে দিল্লীর মসনদ দখল করতে পারবে এমন আশাও করছেন না ভারতের নির্বাচন বিশ্লেষকরা। কেন্দ্রে যদি দুর্বল সরকার গঠিত হয় এবং আঞ্চলিক দলগুলোর সমন্বয়ে যদি কোনো সরকার গঠিত হয় তাহলে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মেরুকরণ করতে হবে।

কারণ মমতা বা মায়াবতী হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে বিদ্যমান অগ্রযাত্রাগুলো ছিল সেগুলো কতটুকু ধরে রাখা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদকে সহযোগিতা করা, মদদ দেয়া ছাড়াও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আপোষনামার অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ এ বিএনপি উলফার মত জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিল যার কারণে ভারত বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু ভারতের রাজনীতিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো যদি দিল্লীতে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ভারতে আবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জাতিসত্তার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান ঘটবে এবং সেটার একটা প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে পড়তেও পারে।

সবকিছু নির্ভর করছে শেষ পর্যন্ত ভারতের নির্বাচনে ফলাফল কি হয় তার উপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন নির্বাচনে যদি কংগ্রেস বা বিজেপি কেউ ক্ষমতা গ্রহণ করে তাহলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। আর অন্যদিকে যদি কোনো ক্ষুদ্র অচেনা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হবে নতুন হিসেব নিকেশ।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার