তারেক-মমতার টেলি আলাপ?

সোমবার, মে ২০, ২০১৯ ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৃয়মাণ থাকলেও ভারতের নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত তৎপর বিএনপি। বিএনপির একাধিক নেতা এবং তারেক জিয়ার প্রতিনিধিরা এখন ভারতের নির্বাচনের হিসাব নিকাশ কষছেন। ভারতের নির্বাচনের ভারতের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।তারেক জিয়ার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জীর আলাপ হয়েছে বলেও ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে। এরকম পরিস্থিতিতেই আজ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

ভারতের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি তৎপরতা অত্যন্ত গোপনে চালাচ্ছে। তবে মজার ব্যাপার হলো কংগ্রেস বা বিজেপির দিকে না ভারতের আঞ্চলিক এবং ক্ষুদ্র দলগুলোর দিকেই ঝুকেছে বিএনপি এবং তাঁদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিএনপি মনে করছে যে, এবারের নির্বাচনে নাটকীয় পট পরিবর্তন হবে, আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান ঘটবে।এজন্য আঞ্চলিক এবং ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি যোগাযোগ করছে। বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দল গ্রুপ এবং থিংক ট্যাংকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনেক নেতাকেই ভারত যাওয়ায় বাধা দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নিপুন রায় চৌধুরীর মতো নেতৃবৃন্দ। কিন্তু তারপরও অনেকে গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে বিএনপির অনেক নেতা সিঙ্গাপুর বা ব্যাংকক থেকেও ভারতে গিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।ভারতের নির্বাচন নিয়ে তারেক জিয়ার নির্দেশনায় বিএনপির একটি দল সুবির্নাস্ত হয়ে কাজ করছে বলে বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন। এদের একটি গ্রুপ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। একটি গ্রুপ কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে একটি গ্রুপ যোগাযোগ রাখছে।

তবে তারেক জিয়া নিজেই আঞ্চলিক দলগুলোর ব্যাপারে উৎসাহী বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক দলগুলোর দাবি দাওয়ার ব্যাপারে যোগাযোগ রাখছেন তারেক জিয়া নিজেই। বিভিন্ন সূত্রমতে ভারতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তারেক জিয়া একটা নিজস্ব টিম তৈরী করেছেন তার পরিকল্পনা অনুযায়ী। তিনি তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ভারতের নির্বাচনের উপরই বাংলাদেশে বিএনপির ভাগ্য নির্ভর করছে।ভারতের নির্বাচনের সময় তারা দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায়। এই লক্ষেই এই নির্বাচনে বিএনপি সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই নানা রকম সমীকরণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে তারেক জিয়া ব্যক্তিগতভাবে ছোট ছোট আঞ্চলিক দলের সঙ্গে নিজেই যোগাযোগ করেছেন বলে বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

তারেক জিয়া বলেছেন, এবার নির্বাচনে নাটকীয় ঘটনা ঘটবে। শেষ পর্যন্ত হয়তো কংগ্রেস বিজেপির বাইরে একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে আঞ্চলিক দল ক্ষমতায় আসবে। সেই জন্যই তারেক জিয়া ব্যক্তিগতভাবে আঞ্চলিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ভারতের মৌলিক রাষ্ট্রনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে খুব একটা হেরফের হয় না। ভারতের যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, কেউই জঙ্গিবাদ এবং বিচ্ছন্নতাবাদীদেরকে প্রশ্রয় দিবে না। সে কারণেই যদি দক্ষিনপন্থী দলও ক্ষমতায় আসে, তবুও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কের ধারাই অব্যাহত রাখবে। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যে ইস্যুগুলো তা ভারতের রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালারই অংশ।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার