বিএনপির হেভিওয়েট রাজনৈতিক পরিবার

বুধবার, মে ২৯, ২০১৯ ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

বিএনপি দলে জিয়া পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমানের পর তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। বেগম খালেদা জিয়ার পরে তার বড় ছেলে তারেকের স্থান। তবে বিএনপির মধ্যে আরো অনেক নেতা আছেন যারা বংশ পরিক্রমায় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি গঠনের ইতিহাসে খুব বেশি পুরনো দল নয়। সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ নেতাদের পূর্বপুরুষই ছিল অন্যকোন দলের। এমনকি বর্তমান বিএনপির সিনিয়র বেশিরভাগ নেতাই আওয়ামী লীগ বা বিভিন্ন বাম দল থেকে বের হয়ে যোগ দিয়েছেন দলটিতে। এমন অবস্থায় বিএনপির কয়েকটি হেভিওয়েট রাজনৈতিক পরিবারের খবর জানানো হলো:

চট্টগ্রামের চৌধুরী পরিবার:ফজলুল কাদের চৌধুরী। পাকিস্তানের স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন একদিনের। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে স্বাধীন বাংলাদেশে কারাবন্দি হন। কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বাংলাদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ অঞ্চলজুড়ে শেকড়ের মতো ছড়িয়ে চট্টগ্রামের এ চৌধুরী পরিবারের আত্মীয়তা। ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। যার মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তার দাদা শ্বশুর হলেন মাওলানা আবদুস সোবহান। যার নামে ঢাকার সোবহানবাগের নামকরণ।

নানা শ্বশুর ফরিদপুরের বিখ্যাত চৌধুরী আবাদ আল্লা জহিরউদ্দিন লাল মিয়া। ফজলুল কাদের চৌধুরীর তৃতীয় ছেলে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাবেক এমপি এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছোট ছেলে জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি হলেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নাতিন জামাই। সালাউদ্দিন কাদেরের খালাতো ভাই হলেন শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সালমান এফ রহমান। সালাউদ্দিন কাদের ও সাবের হোসেন চৌধুরী পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। অন্যদিকে সাবের হোসেন চৌধুরীর দুই ফুফাতো ভাই হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও বিএনপি সরকারের আমলে ব্যর্থ ক্যুর অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনাপ্রধান মে. জেনারেল (অব.) নাসিম বীরবিক্রম। মোদ্দকথা, এই পরিবারের আত্মীয়তে ভরা বাংলাদেশের রাজনীতি।

জামালপুরের খান পরিবার:জামালপুরের বিখ্যাত খান পরিবারের সন্তান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান। তার চাচাতো ভাই হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান। মঞ্জুরুল আহসান খানের শ্যালক হলেন সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। নজরুল ইসলাম খানের সম্পর্কে ভাতিজা হলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল।

টঙ্গীর সরকার পরিবার:বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাসানউদ্দিন সরকারের বড় দাদা নিজামউদ্দিন সরকার ছিলেন টঙ্গী ইউনিয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান। তার একই সঙ্গে চাচাতো ভাই ও মামাতো বোনের জামাই হলেন গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতা ও টঙ্গীর সাবেক পৌর মেয়র সালাহউদ্দিন সরকার। তার আরেক চাচাতো ভাই সাহাজউদ্দিন সরকার ছিলেন টঙ্গী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। হাসান সরকারের বড় ছেলের শ্বশুর হলেন ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ। আবার হাসান সরকারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেন টঙ্গীর সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল।

আউয়াল পরিবার:বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার দুই বেয়াই পরস্পরবিরোধী দুই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বড় ছেলে তাবিথ আউয়ালের শ্বশুর মির্জা ইস্কান্দার আলী জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মেজ ছেলে তাফসীর আওয়ালের শ্বশুর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী।

পাবনার মির্জা পরিবার:জিয়া সরকারের মন্ত্রী ছিলেন পাবনার মির্জা আবদুল হালিম। তার চাচাতো ভাই মির্জা আবদুল আওয়ালও ছিলেন জিয়া সরকারের এমপি। মির্জা আওয়ালের ভাগনে হলেন এরশাদ সরকার ও বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। আবার মঞ্জুর কাদেরের সম্পর্কে চাচা হলেন বাম নেতা ও ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন। বাম নেতা টিপু বিশ্বাসের ভগ্নিপতি হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী মির্জা হালিম। পাবনা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহতাবউদ্দিন বিশ্বাসের ভাগনে হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি আবার বাম নেতা টিপু বিশ্বাসের সম্পর্কে ভাতিজা।

ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা পরিবার:ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা পরিবারের প্রধান ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া)। তার বড় ছেলে হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছোট ছেলে মির্জা ফয়সল জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা। মির্জা আলমগীরের বোনজামাই হলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। আবার বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা গোলাম হাফিজ এবং ভাষাসৈনিক ও কমিউনিস্ট নেতা প্রয়াত মির্জা নুরুল হুদা কাদের বকস হলেন মির্জা আলমগীরের সম্পর্কে চাচা।মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামান। তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

চট্টগ্রামের চৌধুরী পরিবার:পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন চট্টগ্রামের মাহমুদুননবী চৌধুরী। তার ছেলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। আমীর খসরুর জেঠা নুরুল হক চৌধুরীও ছিলেন পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী। আমীর খসরু চৌধুরীর চাচাতো বোনের জামাই হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। আবার জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছোট ছেলের বউ হলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের ভাতিজি। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেন বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী কামরুন নাহার জাফর ও জাতীয় পার্টির দলীয় চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার